ঢাকা ০৫:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
শুক্র ও শনিবার খোলা থাকবে ব্যাংক বাংলাদেশে একটি কার্যালয় খোলার জন্য প্রযুক্তি জায়ান্ট মেটাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ঐতিহাসিক ভাষণ আজ প্রতিদিন টক দই খাওয়ার যেসব উপকার জানলে অবাক হবেন জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হলেন ‘আজ কেন মন উদাসী হয়ে’ গানের আলোচিত সেই বিউটি রাণী সরকারি হাসপাতালের ১ কিলোমিটারের মধ্যে নতুন ক্লিনিক নয় ঢাকা-চট্টগ্রামসহ ১২ অঞ্চলে ঝড়ের আভাস রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের কোনো বিকল্প নেই : প্রধানমন্ত্রী মিরপুর বিআরটিএতে ভ্রাম্যমাণ আদালত, দালালের তিন মাসের কারাদণ্ড গুলশান ও বনানী থানায় নতুন ওসি

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ঐতিহাসিক ভাষণ আজ

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০২:৪৪:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে প্রথমবারের মতো আজ বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান।

বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে প্রথমবারের মতো আজ বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান। বিকালের (নিউইয়র্কের স্থানীয় সময়) অধিবেশনে নির্ধারিত বক্তাদের মধ্যে তিনি ১১তম বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেবেন। তার জন্য ১৫ মিনিট সময় নির্ধারিত রয়েছে। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী বাংলাতেই বক্তব্য রাখবেন তিনি। তারেক রহমানের এই ভাষণকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ এর আগে তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দিয়েছেন। ফলে একই পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে তারেক রহমান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন। 

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট জাতিসংঘের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে বক্তব্য দেন। তার বক্তব্যে তৎকালীন বিশ্বে ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর বৈষম্য, দারিদ্র্য, ক্ষুধা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা গুরুত্ব পায়। এর ১৩ বছর পর ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর জাতিসংঘের ৪৮তম সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন বেগম খালেদা জিয়া।

এবার সেই ধারাবাহিকতায় জাতিসংঘের মঞ্চে উঠছেন তারেক রহমান। ৮১তম অধিবেশনে তার ভাষণকে ঘিরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে ইতোমধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে জলবায়ু পরিবর্তন, জলবায়ু অর্থায়ন, দারিদ্র্য দূরীকরণ, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, বৈশ্বিক শান্তি, আন্তর্জাতিক সংকটের টেকসই সমাধান এবং রোহিঙ্গা সংকটের মতো বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন-অগ্রাধিকার দিয়ে একটি নতুন বাংলাদেশের কথাও বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী।

এবারের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্যÑ ‘Restoring Trust, Managing Transformation : A United Nations That Delivers for All.’ অর্থাৎ আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং পরিবর্তনশীল বিশ্বব্যবস্থাকে কার্যকরভাবে পরিচালনার ওপর এবারের অধিবেশনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের জন্য এবারের অধিবেশন আরও একটি কারণে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

জাতিসংঘের এই বিশ্বমঞ্চে তারেক রহমানের প্রথম ভাষণ, তাই শুধু একটি আনুষ্ঠানিক বক্তব্য নয়; এটি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি, উন্নয়ন অগ্রাধিকার ও বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতে দেশের অবস্থান তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। একই সঙ্গে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার পর পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে তার এই উপস্থিতি জাতিসংঘের সঙ্গে পরিবারের চার দশকেরও বেশি সময়ের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার ধারাবাহিকতায় নতুন অধ্যায় যোগ করবে।

গত রবিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের মূল বিষয়গুলো তুলে ধরেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রা, আইনের শাসন, জবাবদিহি, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং টেকসই উন্নয়নের বিষয়ে কথা বলবেন। এ ছাড়া অর্থনৈতিক সহযোগিতা, তরুণ ও নারী ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, আধুনিক প্রযুক্তির সমতাভিত্তিক ব্যবহার এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তুলে ধরবেন।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, এই ভাষণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘে তারেক রহমানের এটিই প্রথম অংশগ্রহণ। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক এই সর্বোচ্চ মঞ্চে বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও ভবিষ্যৎ পথচলা তুলে ধরার প্রথম সুযোগও।

জনপ্রিয় সংবাদ

শুক্র ও শনিবার খোলা থাকবে ব্যাংক

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ঐতিহাসিক ভাষণ আজ

আপডেট সময় ০২:৪৪:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে প্রথমবারের মতো আজ বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান।

বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে প্রথমবারের মতো আজ বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান। বিকালের (নিউইয়র্কের স্থানীয় সময়) অধিবেশনে নির্ধারিত বক্তাদের মধ্যে তিনি ১১তম বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেবেন। তার জন্য ১৫ মিনিট সময় নির্ধারিত রয়েছে। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী বাংলাতেই বক্তব্য রাখবেন তিনি। তারেক রহমানের এই ভাষণকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ এর আগে তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দিয়েছেন। ফলে একই পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে তারেক রহমান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন। 

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট জাতিসংঘের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে বক্তব্য দেন। তার বক্তব্যে তৎকালীন বিশ্বে ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর বৈষম্য, দারিদ্র্য, ক্ষুধা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা গুরুত্ব পায়। এর ১৩ বছর পর ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর জাতিসংঘের ৪৮তম সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন বেগম খালেদা জিয়া।

এবার সেই ধারাবাহিকতায় জাতিসংঘের মঞ্চে উঠছেন তারেক রহমান। ৮১তম অধিবেশনে তার ভাষণকে ঘিরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে ইতোমধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে জলবায়ু পরিবর্তন, জলবায়ু অর্থায়ন, দারিদ্র্য দূরীকরণ, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, বৈশ্বিক শান্তি, আন্তর্জাতিক সংকটের টেকসই সমাধান এবং রোহিঙ্গা সংকটের মতো বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন-অগ্রাধিকার দিয়ে একটি নতুন বাংলাদেশের কথাও বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী।

এবারের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্যÑ ‘Restoring Trust, Managing Transformation : A United Nations That Delivers for All.’ অর্থাৎ আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং পরিবর্তনশীল বিশ্বব্যবস্থাকে কার্যকরভাবে পরিচালনার ওপর এবারের অধিবেশনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের জন্য এবারের অধিবেশন আরও একটি কারণে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

জাতিসংঘের এই বিশ্বমঞ্চে তারেক রহমানের প্রথম ভাষণ, তাই শুধু একটি আনুষ্ঠানিক বক্তব্য নয়; এটি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি, উন্নয়ন অগ্রাধিকার ও বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতে দেশের অবস্থান তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। একই সঙ্গে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার পর পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে তার এই উপস্থিতি জাতিসংঘের সঙ্গে পরিবারের চার দশকেরও বেশি সময়ের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার ধারাবাহিকতায় নতুন অধ্যায় যোগ করবে।

গত রবিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের মূল বিষয়গুলো তুলে ধরেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রা, আইনের শাসন, জবাবদিহি, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং টেকসই উন্নয়নের বিষয়ে কথা বলবেন। এ ছাড়া অর্থনৈতিক সহযোগিতা, তরুণ ও নারী ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, আধুনিক প্রযুক্তির সমতাভিত্তিক ব্যবহার এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তুলে ধরবেন।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, এই ভাষণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘে তারেক রহমানের এটিই প্রথম অংশগ্রহণ। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক এই সর্বোচ্চ মঞ্চে বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও ভবিষ্যৎ পথচলা তুলে ধরার প্রথম সুযোগও।