২২ রানে ২ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ের শুরু। এরপর একের পর এক উইকেটের পতন, শরীরে জেডেন সিলসের গতিময় বলের আঘাত।
কিন্তু কোনো কিছুই দমাতে পারেনি তাওহীদ হৃদয়কে। ব্যথা উপেক্ষা করে লেজের ব্যাটারদের সঙ্গে নিয়ে চালিয়ে গেছেন লড়াই।
সতীর্থরা যখন আসা-যাওয়ার মিছিলে, তখন ব্যাট হাতে একাই লড়াই চালিয়ে গেছেন তিনি। সেই লড়াইয়ের পুরস্কারও পেলেন দারুণভাবে।
টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে গড়লেন ইতিহাস। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে নিজের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিকে ডাবলে পরিণত করলেন তিনি।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিনে বাংলাদেশের হয়ে একাই যেন প্রতিরোধের নাম তাওহীদ। নিজের মাত্র তৃতীয় টেস্ট খেলতে নেমেই দুইশ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন এই ব্যাটার। অথচ এই ম্যাচের আগে চার ইনিংসে তার সংগ্রহ ছিল মাত্র ৫৪ রান। টেস্ট ক্যারিয়ারে কোনো হাফ সেঞ্চুরিও ছিল না। সেই তাওহীদই এবার খেললেন ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ইনিংস।
প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৩৫৬ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। দ্রুত ফিরে যান দুই ওপেনার। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও ইনিংস বড় করতে পারেননি। দ্বিতীয় দিন শেষে ৩ উইকেটে ৮৮ রান নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা। তৃতীয় দিনের সকালে মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন তাওহীদ। তবে মুশফিক ফিরে যাওয়ার পর আবারও ধস নামে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে। লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি।
এর মধ্যে জেডেন সিলসের গতিময় একটি বল আঘাত হানে হৃদয়ের পাঁজরে। শারীরিক অস্বস্তি নিয়েও ব্যাটিং চালিয়ে যান তিনি। লেজের ব্যাটারদের নিয়ে দারুণভাবে ইনিংস এগিয়ে নেন। কখনো নিজে রান করে, কখনো সঙ্গীকে আগলে রেখে স্ট্রাইক ধরে রেখেছেন। আবার সুযোগ বুঝে খেলেছেন আক্রমণাত্মক শটও।
ইনিংসের ৯৯.১ ওভারে জোমেল ওয়ারিকানের বল লং-অনে ঠেলে দিয়ে এক রান নিয়ে ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তাওহীদ। তার এই মাইলফলকের মুহূর্তটি বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে বিশেষ এক অর্জন হয়ে থাকবে। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টেস্টে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস এখন তার। পাশাপাশি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্টে কোনো বাংলাদেশি ব্যাটারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহও এটি।
নিউজ সেভেন ডেইজ news7days
স্পোর্টস ডেস্ক 
























