শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের বিশেষ অনুদান দেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।অনলাইনে আবেদন করে কাঙ্ক্ষিত সংখ্যক যোগ্য প্রার্থী না পাওয়ায় এবার ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে আবেদন নেওয়া হচ্ছে।নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ১৫ অক্টোবর বিকেল ৪টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলা কমিটির যাচাই ও সুপারিশ করা আবেদন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে পৌঁছাতে হবে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের বাজেট শাখা এ বিষয়ে পুনঃবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের পরিচালন বাজেটের আওতায় বিশেষ অনুদান হিসেবে বরাদ্দ অর্থ বিতরণের জন্য গত ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত মাইগভ প্ল্যাটফর্মে অনলাইনে আবেদন নেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত প্রাপ্যতা অনুযায়ী কাঙ্ক্ষিত সংখ্যক যোগ্য প্রার্থী পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি প্রত্যন্ত, দুর্গম, উপকূলীয়, চরাঞ্চল, হাওর ও অনগ্রসর এলাকার সম্ভাব্য যোগ্য প্রার্থীদের অনলাইনে আবেদন করার সুযোগ সীমিত ছিল। এ কারণে যোগ্য প্রার্থীরা যাতে অনুদান থেকে বঞ্চিত না হন, সে জন্য ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে নতুন করে আবেদন নেওয়া হচ্ছে।
বেসরকারি সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মেরামত ও সংস্কার, আসবাবপত্র ও শিক্ষা উপকরণ সংগ্রহ, খেলাধুলার সরঞ্জাম সংগ্রহ, প্রতিষ্ঠানকে প্রতিবন্ধীবান্ধব করা এবং পাঠাগার উন্নয়নের জন্য অনুদানের আবেদন করতে পারবে। বেসরকারি সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা দুরারোগ্য ব্যাধি ও দৈব দুর্ঘটনার কারণে আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারবেন।
এ ছাড়া সরকারি ও বেসরকারি সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা বিশেষ অনুদানের জন্য আবেদন করতে পারবেন। দুরারোগ্য ব্যাধি ও দৈব দুর্ঘটনায় আক্রান্ত, দুস্থ, মেধাবী, এতিম, অদম্য মেধাবী ও দরিদ্র, প্রতিবন্ধী, তৃতীয় লিঙ্গ, অসহায় ও অনগ্রসর সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীরা অগ্রাধিকার পাবেন। একই সঙ্গে উপকূলীয়, চরাঞ্চল, হাওর ও প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীদেরও অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুদানের জন্য প্রতিষ্ঠানপ্রধান বা প্রধান শিক্ষককে নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের আবেদন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধান, প্রধান শিক্ষক বা অধ্যক্ষের মাধ্যমে পাঠাতে হবে। স্নাতক বা সমমান এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের আবেদন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধান, অধ্যক্ষ বা রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে করতে হবে।
প্রতিষ্ঠানপ্রধান, অধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক বা রেজিস্ট্রার আবেদনগুলো গ্রহণ করে প্রাথমিক যাচাইয়ের পর একত্র করবেন। পরে সেগুলো সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হবে। জেলা পর্যায়ের কমিটি আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করে সুপারিশ করবে। সুপারিশ করা তালিকা আগামী ১৫ অক্টোবর বিকেল ৪টার মধ্যে সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় বরাবর পৌঁছাতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পর পাওয়া কোনো আবেদন বিবেচনা করা হবে না।
অনলাইন ও ম্যানুয়াল উভয় পদ্ধতিতে আবেদন করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের ব্যাংক হিসাবে অনুদানের অর্থ দেওয়া হবে। অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীদের জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকলে তাদের বাবা বা মায়ের সঙ্গে যৌথ নামে এবং প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীদের নিজ নামে তফসিলি ব্যাংক হিসাব থাকা বাধ্যতামূলক।
অসম্পূর্ণ, ত্রুটিপূর্ণ, ভুল তথ্যযুক্ত বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া আবেদন সরাসরি বাতিল করা হবে। আবেদন বা সুপারিশকে অনুদান পাওয়ার অধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হবে না। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে পাওয়া আবেদনগুলোও অনলাইন আবেদনের মতো একই যোগ্যতা, শর্ত ও অগ্রাধিকার অনুসরণ করে জেলা পর্যায়ের কমিটি যাচাই-বাছাই করবে। বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া শর্ত না মানা বা অসৎ উপায় অবলম্বন করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
মাধ্যমিক পর্যায়ের সরকারি ও বেসরকারি সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের আবেদনকারীদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে নির্দেশনা দেওয়ার জন্য জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে। একইভাবে স্নাতক ও তদূর্ধ্ব বা সমমান পর্যায়ের সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও রেজিস্ট্রারদের আবেদনকারীদের সহযোগিতা করতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, জেলা শিক্ষা অফিস ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের নোটিশ বোর্ড ও ওয়েবসাইটসহ অন্যান্য মাধ্যমে বিশেষ অনুদানসংক্রান্ত পুনঃবিজ্ঞপ্তিটি ব্যাপকভাবে প্রচারের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।
নিউজ ডেস্ক 























