ঢাকা ০১:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ইনস্টাগ্রামে রিলস দেখলেই মিলবে বেতন, কর্মী খুঁজছে প্রতিষ্ঠান ফ্রিতে ওমরাহ করার বিশাল সুযোগ, যেভাবে পাবেন বুয়েটে ভর্তি পরীক্ষা ১৬ জানুয়ারি, আবেদন শুরু ২১ নভেম্বর থেকে ডাবল সেঞ্চুরিতে হৃদয়ের নতুন ইতিহাস কোনো ডিসেম্বরেই ‘আপা’ আসার সুযোগ নেই, এলেও ফাঁ’সির মঞ্চ প্রস্তুত: নাহিদ ইসলাম সার্বভৌমত্ব র‍্যালিতে পায়ে হেঁটে নয়াপল্টন থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য, নাহিদ ইসলামকে আইনি নোটিশ  আদনান আল রাজীবের চলচ্চিত্র ‘অপলক’ কে নিশো ও মেহজাবীন এনসিপিতে যোগ দিতে যাওয়া প্রসংগে ফারজানা আমার স্ত্রী নন: গোলাম মাওলা রনি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সেনেটর আবদুল এল-সাইয়েদ

বলিউডের শক্তিমান ও কালজয়ী অভিনেতা নানা পাটেকর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন

  • বিনোদন ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:৩১:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
  • ৩৩ বার পড়া হয়েছে

ভারতীয় চলচ্চিত্রের শক্তিমান ও কালজয়ী অভিনেতা নানা পাটেকর আর নেই। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ৭৫ বছর বয়সী এ প্রবীণ তারকা। তার মৃত্যুতে বিনোদন জগতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নানা পাটেকরের ছেলে মলহার পাটেকর তার বাবার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোরে গোয়ায় নিজের বাসভবনে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর নানা পাটেকরের মৃত্যু হয়।

৭৫ বছর বয়সী এই অভিনেতাকে পানাজির কাছের ডোনা পাউলায় অবস্থিত তার অ্যাপার্টমেন্টে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়।পরে তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

সঙ্গে সঙ্গে একটি চিকিৎসা দল তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন এবং টানা ৪৫ মিনিট ধরে সিপিআর প্রদান করেন। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে ভোর ৫:২০ মিনিটে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

গোয়ার মনিপাল হাসপাতালের অনকোলজি বিভাগের প্রধান ড. শেখর সালকার ভারতীয় গণমাধ্যমকে এ খবর নিশ্চিত করে বলেছেন, ‘গুরুতর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। নিয়ম অনুযায়ী ঘটনাটিকে একটি মেডিকো-লিগ্যাল কেস হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং একটি ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হবে।’

নিজের দাপুটে অভিনয়, সংলাপে অনন্য ভঙ্গিমা ও শক্তিশালী ব্যক্তিত্বের গুণে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে দর্শকদের হৃদয়ে রাজত্ব করেছেন নানা পাটেকর। ‘ক্রান্তিবীর’, ‘তিরঙ্গা’, ‘পারিন্দা’, ‘ওয়েলকাম’-এর মতো অসংখ্য জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে তার অভিনয় কালজয়ী হয়ে রয়েছে।

বিশাল ভরদ্বাজের ছবিতে শেষ অভিনয়নানা পাটেকরের মৃত্যুতে শ্রদ্ধা জানিয়ে সিনিয়র সাংবাদিক রাজদীপ সারদেশাই লিখেছেন, “একজন অসাধারণ অভিনেতা, কিন্তু তার চেয়েও বড় কথা, একজন প্রিয় বন্ধু, নানা পাটেকর আর নেই। কিছুক্ষণ আগে গোয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে। গতকালই তার সঙ্গে আমার কথা হয়েছিল। তার শেষ কথা ছিল, ‘কালজি ঘে রাজা’ (নিজের যত্ন নিও, রাজা)।”

“পর্দায় এবং পর্দার বাইরে, আপনাকে খুব মিস করব নানা সাহেব। ভালো সময়, খারাপ সময়, সবসময়ই আপনি আমার পাশে ছিলেন। ওম শান্তি।”
নানা পাটেকরকে সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল বিশাল ভরদ্বাজ পরিচালিত রোমান্টিক অ্যাকশন থ্রিলার চলচ্চিত্র ও’ রোমিও-তে। এতে প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন শহিদ কাপুর ও তৃপ্তি ডিমরি।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে মুক্তি পাওয়া এই চলচ্চিত্রে মি. পাটেকর মুম্বাই ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর প্রধান ইসমাইল খানের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন।

ফিল্মের জগতে নানা পাটেকরের যাত্রা
অসামান্য অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি তিনটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ একাধিক সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। এ প্রিয় অভিনেতার আকস্মিক প্রয়াণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শ্রদ্ধা ও শোক জ্ঞাপন করছেন পুরো বলিউড ও বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়ে থাকা তার ভক্ত-অনুরাগীরা।

নানা পাটেকর ছিলেন হিন্দি ও মারাঠি সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা।
কয়েক দশকজুড়ে পরিন্দা, প্রহার: দ্য ফাইনাল অ্যাটাক, ক্রান্তিবীর, অগ্নি সাক্ষী, খামোশি: দ্য মিউজিক্যাল, আব তক ছাপ্পান এবং ওয়েলকামের মতো বহু ছবিতে তিনি অভিনয় করেছেন।

অভিনয়ের পাশাপাশি মি. পাটেকর ‘প্রহার: দ্য ফাইনাল অ্যাটাক’ চলচ্চিত্রটি পরিচালনাও করেছিলেন।সিনেমা ও শিল্পকলায় অবদানের জন্য ২০১৩ সালে তাকে ভারত সরকার পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করে।

১৯৭৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘গমন’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয় নানা পাটেকরের। ২০০০-এর দশকের শুরুতে তার অভিনয় ব্যাপক প্রশংসা পায়, বিশেষ করে শক্তি: দ্য পাওয়ার (২০০২), অব তক ছাপ্পান (২০০৪), অপহরণ (২০০৫) এবং ট্যাক্সি নম্বর ৯২১১ (২০০৬) চলচ্চিত্রে।

২০০৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত কমেডি চলচ্চিত্র ওয়েলকাম-এ গ্যাংস্টার উদয় শেঠির চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের মন জয় করে নেন। ওয়েলকাম ব্যাক (২০১৫) সিক্যুয়েলেও তিনি একই চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন।

কমেডি থ্রিলার হাউসফুল ৫-এও পাটেকর একটি সহ-ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন।

২০১০ সালে তিনি রাজনৈতিক থ্রিলার ‘রাজনীতি’ ছবিটিতে অভিনয় করেন। এ ছবির জন্য তিনি সেরা পার্শ্ব অভিনেতা বিভাগে পঞ্চমবারের মতো ফিল্মফেয়ার পুরস্কারের মনোনয়ন পেয়েছিলেন।

অভিনয়ের পাশাপাশি প্লেব্যাক গায়ক হিসেবেও কণ্ঠ দিয়েছেন মি. পাটেকর। যশবন্ত (১৯৯৭), ওজুদ (১৯৯৮) এবং আঁচ (২০০৩) চলচ্চিত্রে তিনি গায়ক হিসেবেও অবদান রেখেছিলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইনস্টাগ্রামে রিলস দেখলেই মিলবে বেতন, কর্মী খুঁজছে প্রতিষ্ঠান

বলিউডের শক্তিমান ও কালজয়ী অভিনেতা নানা পাটেকর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন

আপডেট সময় ০৫:৩১:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

ভারতীয় চলচ্চিত্রের শক্তিমান ও কালজয়ী অভিনেতা নানা পাটেকর আর নেই। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ৭৫ বছর বয়সী এ প্রবীণ তারকা। তার মৃত্যুতে বিনোদন জগতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নানা পাটেকরের ছেলে মলহার পাটেকর তার বাবার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোরে গোয়ায় নিজের বাসভবনে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর নানা পাটেকরের মৃত্যু হয়।

৭৫ বছর বয়সী এই অভিনেতাকে পানাজির কাছের ডোনা পাউলায় অবস্থিত তার অ্যাপার্টমেন্টে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়।পরে তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

সঙ্গে সঙ্গে একটি চিকিৎসা দল তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন এবং টানা ৪৫ মিনিট ধরে সিপিআর প্রদান করেন। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে ভোর ৫:২০ মিনিটে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

গোয়ার মনিপাল হাসপাতালের অনকোলজি বিভাগের প্রধান ড. শেখর সালকার ভারতীয় গণমাধ্যমকে এ খবর নিশ্চিত করে বলেছেন, ‘গুরুতর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। নিয়ম অনুযায়ী ঘটনাটিকে একটি মেডিকো-লিগ্যাল কেস হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং একটি ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হবে।’

নিজের দাপুটে অভিনয়, সংলাপে অনন্য ভঙ্গিমা ও শক্তিশালী ব্যক্তিত্বের গুণে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে দর্শকদের হৃদয়ে রাজত্ব করেছেন নানা পাটেকর। ‘ক্রান্তিবীর’, ‘তিরঙ্গা’, ‘পারিন্দা’, ‘ওয়েলকাম’-এর মতো অসংখ্য জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে তার অভিনয় কালজয়ী হয়ে রয়েছে।

বিশাল ভরদ্বাজের ছবিতে শেষ অভিনয়নানা পাটেকরের মৃত্যুতে শ্রদ্ধা জানিয়ে সিনিয়র সাংবাদিক রাজদীপ সারদেশাই লিখেছেন, “একজন অসাধারণ অভিনেতা, কিন্তু তার চেয়েও বড় কথা, একজন প্রিয় বন্ধু, নানা পাটেকর আর নেই। কিছুক্ষণ আগে গোয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে। গতকালই তার সঙ্গে আমার কথা হয়েছিল। তার শেষ কথা ছিল, ‘কালজি ঘে রাজা’ (নিজের যত্ন নিও, রাজা)।”

“পর্দায় এবং পর্দার বাইরে, আপনাকে খুব মিস করব নানা সাহেব। ভালো সময়, খারাপ সময়, সবসময়ই আপনি আমার পাশে ছিলেন। ওম শান্তি।”
নানা পাটেকরকে সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল বিশাল ভরদ্বাজ পরিচালিত রোমান্টিক অ্যাকশন থ্রিলার চলচ্চিত্র ও’ রোমিও-তে। এতে প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন শহিদ কাপুর ও তৃপ্তি ডিমরি।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে মুক্তি পাওয়া এই চলচ্চিত্রে মি. পাটেকর মুম্বাই ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর প্রধান ইসমাইল খানের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন।

ফিল্মের জগতে নানা পাটেকরের যাত্রা
অসামান্য অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি তিনটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ একাধিক সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। এ প্রিয় অভিনেতার আকস্মিক প্রয়াণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শ্রদ্ধা ও শোক জ্ঞাপন করছেন পুরো বলিউড ও বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়ে থাকা তার ভক্ত-অনুরাগীরা।

নানা পাটেকর ছিলেন হিন্দি ও মারাঠি সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা।
কয়েক দশকজুড়ে পরিন্দা, প্রহার: দ্য ফাইনাল অ্যাটাক, ক্রান্তিবীর, অগ্নি সাক্ষী, খামোশি: দ্য মিউজিক্যাল, আব তক ছাপ্পান এবং ওয়েলকামের মতো বহু ছবিতে তিনি অভিনয় করেছেন।

অভিনয়ের পাশাপাশি মি. পাটেকর ‘প্রহার: দ্য ফাইনাল অ্যাটাক’ চলচ্চিত্রটি পরিচালনাও করেছিলেন।সিনেমা ও শিল্পকলায় অবদানের জন্য ২০১৩ সালে তাকে ভারত সরকার পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করে।

১৯৭৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘গমন’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয় নানা পাটেকরের। ২০০০-এর দশকের শুরুতে তার অভিনয় ব্যাপক প্রশংসা পায়, বিশেষ করে শক্তি: দ্য পাওয়ার (২০০২), অব তক ছাপ্পান (২০০৪), অপহরণ (২০০৫) এবং ট্যাক্সি নম্বর ৯২১১ (২০০৬) চলচ্চিত্রে।

২০০৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত কমেডি চলচ্চিত্র ওয়েলকাম-এ গ্যাংস্টার উদয় শেঠির চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের মন জয় করে নেন। ওয়েলকাম ব্যাক (২০১৫) সিক্যুয়েলেও তিনি একই চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন।

কমেডি থ্রিলার হাউসফুল ৫-এও পাটেকর একটি সহ-ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন।

২০১০ সালে তিনি রাজনৈতিক থ্রিলার ‘রাজনীতি’ ছবিটিতে অভিনয় করেন। এ ছবির জন্য তিনি সেরা পার্শ্ব অভিনেতা বিভাগে পঞ্চমবারের মতো ফিল্মফেয়ার পুরস্কারের মনোনয়ন পেয়েছিলেন।

অভিনয়ের পাশাপাশি প্লেব্যাক গায়ক হিসেবেও কণ্ঠ দিয়েছেন মি. পাটেকর। যশবন্ত (১৯৯৭), ওজুদ (১৯৯৮) এবং আঁচ (২০০৩) চলচ্চিত্রে তিনি গায়ক হিসেবেও অবদান রেখেছিলেন।