ময়মনসিংহের রামকৃষ্ণ মিশন মন্দিরে কুমারী পূজা শুরু হওয়ার কথা দুপুরে, অথচ সকাল থেকেই ছিল উপচে পড়া ভিড়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভক্তদের জনস্রোতে রূপ নেয় পুরো মন্দির প্রাঙ্গণ। নির্ধারিত সময়ের আগেই প্যান্ডেল পূর্ণ হয়ে চলাচলের পথও বন্ধ হয়ে যায়।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে ময়মনসিংহ নগরের রামকৃষ্ণ মিশন মন্দিরে দেখা যায় এমন দৃশ্য। শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাষ্টমীতে কুমারী পূজাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই উৎসবমুখর হয়ে ওঠে মন্দির প্রাঙ্গণ। শুধু রামকৃষ্ণ মিশন নয়, নগরের দুর্গাবাড়ি মন্দিরসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপেও ছিল ভক্ত ও দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী শিখা রানী বলে সকাল থেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরেছি। ‘দুর্গাপূজা মানেই অন্য রকম আনন্দ। সকালে বাবা-মা ও ভাইকে নিয়ে বের হয়েছি। অষ্টমী পূজা শেষে এখানে এসেছি কুমারী পূজা দেখতে। পরিবারের সবাই একসঙ্গে থাকতে পারায় আনন্দটা আরও বেশি।’
দুপুর ১২টা বাজার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় কুমারী পূজার আনুষ্ঠানিকতা। এবার দেবী দুর্গার কুমারীরূপে সাজানো হয় ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে। পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষে ভক্তরা অঞ্জলি দেন। এ সময় মন্দিরজুড়ে ছিল ভক্তদের প্রার্থনা, শঙ্খধ্বনি ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা।
কুমারী পূজা দেখতে আসা আরেক দর্শনার্থী অর্পিতা দাস বলেন, ‘এখানে এলে পূজার আনন্দের পাশাপাশি একধরনের মানসিক প্রশান্তিও পাওয়া যায়। এত মানুষের একসঙ্গে প্রার্থনা আর ভক্তি প্রকাশের দৃশ্য সত্যিই ভালো লাগে।’
চন্দন দাস বলেন, ‘মহাষ্টমী দুর্গোৎসবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন। সকাল থেকেই মণ্ডপে মণ্ডপে মানুষের ভিড়। ঢাকের আওয়াজ আর ধুনুচির গন্ধে চারপাশ উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে। মা দুর্গার আশীর্বাদে সবার জীবন সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধিতে ভরে উঠুক। সব অশুভ শক্তির বিনাশ হোক।’
ময়মনসিংহ জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলায় ৮০৬টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে ময়মনসিংহ নগরেই রয়েছে ৯০টি মন্দিরে পূজার আয়োজন।
জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক শংকর সাহা বলেন, ‘এবার খুবই উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্যাপিত হচ্ছে। মহাষ্টমীর পূজাকে কেন্দ্র করে ময়মনসিংহের মন্দিরগুলোতে চলছে ভক্তদের আনাগোনা। ধর্মীয় আচার, প্রার্থনা আর মানুষের মিলনমেলায় নগরজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে শারদীয় উৎসবের আবহ।’
ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ‘পূজাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যথাযথ নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে। আশা করছি, বিসর্জন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবে না।’
নিউজ সেভেন ডেইজ news7days
সারাদেশ ডেস্ক 






















