উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ উদযাপনে কলকাতার টালিগঞ্জে শুরু হয়েছে চার দিনের উৎসব। শোভাযাত্রা, শ্রদ্ধা, স্মরণসভা ও চলচ্চিত্র উৎসবের মধ্য দিয়ে স্মরণ করা হচ্ছে মহানায়ককে।
আনন্দবাজার লিখেছে, বৃহস্পতিবার সকালে মহানায়কের মূর্তিতে ফুলের মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এর মধ্য দিয়ে আয়োজন উদ্বোধন করেন অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিক।
স্মরণসভার সকালে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, দীপক অধিকারী দেব ও জিত একই গাড়িতে আসেন। রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিসহ চলচ্চিত্র অঙ্গনের অন্যরাও অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত ঘিয়ে ও মেরুন রঙের শাড়ি পরে আসেন, যাতে ফুটে ওঠে উত্তম-সুচিত্রা জুটির ‘সপ্তপদী’ সিনেমার স্মারক। শাড়ির আঁচলে ছাপা ছিল ‘এই পথ যদি না শেষ হয়’ গানের দৃশ্য এবং পাড়জুড়ে ছিল মহানায়কের অবয়ব। ঋতুপর্ণার শাড়ির আঁচল টেনে তা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখেন চিত্রনায়ক দেব ও প্রসেনজিৎ।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ পালন করা হচ্ছে। প্রবীণ-নবীন শিল্পীদের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য পদযাত্রা, কলকাতার নিউ টাউনে ‘উত্তম কুমার ফিল্ম সেন্টার’ এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। প্রেক্ষাগৃহে চলছে উত্তম কুমার অভিনীত সিনেমা।
১৯২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর কলকাতার আহিরীটোলায় মামাবাড়িতে জন্মেছিলেন উত্তমকুমার। বাবা-মায়ের দেওয়া নাম ছিল অরুণ কুমার চট্টোপাধ্যায়।
১৯৪৮ সালে নীতিন বসু পরিচালিত ‘দৃষ্টিদান’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে বড় পর্দায় পা রাখেন তিনি। যদিও প্রথম সিনেমা বক্স অফিসে সাড়া পায়নি। পোস্টারে নাম তো দূরে থাক, নির্ধারিত ২৭ টাকা পারিশ্রমিকের অর্ধেক, মানে সাড়ে ১৩ টাকা দেওয়া হয় অভিনেতাকে।
১৯৪৮ থেকে ১৯৫১ সালের মধ্যে টানা কয়েকটি সিনেমা ব্যর্থ হওয়ায় ইন্ডাস্ট্রিতে উত্তমের গায়ে তকমা এঁটে যায় ‘ফ্লপ মাস্টার জেনারেল’। তবে ১৯৫২ সালে নির্মল দের ‘বসু পরিবার’ চলচ্চিত্র দিয়ে তার মোড় ঘুরে যায়। স্টুডিওর এক কোণে বসে আনমনে গান গাইতে থাকা উত্তমের অভিব্যক্তিতে মুগ্ধ হয়েই তাকে এ সিনেমাতে সুযোগ দিয়েছিলেন পরিচালক।
পরের বছর ১৯৫৩ সালে ‘সাড়ে চুয়াত্তর’ সিনেমাতে প্রথম সুচিত্রা সেনের সঙ্গে জুটি বাঁধেন উত্তম। সুচিত্রার ওই চরিত্রে প্রথম পছন্দে ছিলেন সেসময়ের খ্যাতনামা শিল্পী মালা সিনহা। তিনি প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলে সুচিত্রা সেনকে নেওয়া হয়, আর সেখান থেকেই শুরু হয় উত্তম-সুচিত্রা রোমান্টিক জুটির। ১৯৫৪ সালের ‘অগ্নিপরীক্ষা’ চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে এ জুটি সবার কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
উত্তমের বাবা সাতকড়ি চট্টোপাধ্যায় ছিলেন কলকাতার ঐতিহাসিক ‘মেট্রো সিনেমা’ প্রেক্ষাগৃহের চিফ প্রজেকশন অপারেটর। দীর্ঘকাল শুধু ইংরেজি চলচ্চিত্র প্রদর্শনের জন্য পরিচিত এই প্রেক্ষাগৃহ ১৯৫৭ সালে সব নিয়ম ভেঙে প্রথমবারের মত চালানো হয় বাংলা সিনেমা উত্তম-সুচিত্রার ‘চন্দ্রনাথ’।
সিনেমায় সাফল্যের পর ১৯৬৭ সালে নিজের প্রযোজনায় ‘অগ্নিপরীক্ষা’ সিনেমার হিন্দি সংস্করণ ‘ছোটী সী মুলাকাত’ বানিয়ে চরম ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়েন উত্তম। বিশাল অংকের দেনা মেটাতে অতিরিক্ত কাজের চাপে সত্যজিৎ রায়ের ‘চিড়িয়াখানা’ সিনেমার শুটিং সেটে প্রথমবার হৃদরোগে আক্রান্ত হন এ অভিনেতা।
সব চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলা সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান আইকন হয়ে আছেন উত্তম কুমার। এখনো তার অভিনয়শৈলী দুই বাংলার চলচ্চিত্র প্রেমীদের হৃদয়ে অমলিন।
বিনোদন ডেস্ক 






















