বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন তিন দিনের উত্তরবঙ্গ সফরে এসে ঠাকুরগাঁওয়ের লোকায়ন জীবনবৈচিত্র্য জাদুঘর ও দিনাজপুরের ঐতিহাসিক কান্তজিউ মন্দির পরিদর্শন করেছেন।
আজ মঙ্গলবার সকালে স্ত্রী ডিয়ান ডাওকে সঙ্গে নিয়ে প্রথমে ঠাকুরগাঁওয়ের আকচা গ্রামের লোকায়ন জীবনবৈচিত্র্য জাদুঘর ঘুরে দেখেন। পরে সকাল ১০টার দিকে যান দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার কান্তজিউ মন্দিরে।
রাষ্ট্রদূত মার্কিন দূতাবাসের একটি প্রতিনিধিদলসহ লোকায়ন জীবনবৈচিত্র্য জাদুঘরে যান। জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি ঘুরে দেখার সময় তাঁরা উত্তর বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, ঐতিহ্যবাহী জীবনযাপন, লোকজ সংস্কৃতি, স্থানীয় ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জ্ঞান, জীববৈচিত্র্য ও গ্রামীণ ইতিহাসের নানা নিদর্শন সম্পর্কে ধারণা নেন।
পরে সেখানে আয়োজিত একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। এ সময় রাষ্ট্রদূত ও তাঁর সফরসঙ্গীরা স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী মিঠাই-মণ্ডা ও পিঠার স্বাদ নেন।
স্থানীয় ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও জীবনযাপনের স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে ২০০৬ সালে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ইএসডিও) নির্বাহী পরিচালক মুহম্মদ শহীদ উজ জামানের উদ্যোগে জাদুঘরটি গড়ে তোলা হয়। প্রথমে সেখানে খেটে খাওয়া মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী সংরক্ষণ করা হতো। পরে যুক্ত হয় মুক্তিযুদ্ধ, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জীবন, বাদ্যযন্ত্র, নদী, বিজ্ঞান ও লোকজ খেলনা গ্যালারি।
জাদুঘর পরিদর্শন শেষে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের আতিথেয়তা উপভোগ করছেন। এখানে এসে তিনি ঐতিহ্যবাহী খাবার খেয়েছেন, কিছু মিষ্টির স্বাদ নিয়েছেন এবং লোকায়ন জীবনবৈচিত্র্য জাদুঘর ঘুরে দেখেছেন। উত্তর-পশ্চিম বাংলাদেশের কিছু সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও উপভোগ করেছেন তিনি।
উত্তরবঙ্গে এটি প্রথম সফর জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, অভিজ্ঞতাটি তাঁর কাছে দারুণ আনন্দের। যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের সময় তিনি আকর্ষণীয় স্থান ঘুরতে পছন্দ করেন; এখানেও তেমন অভিজ্ঞতা হয়েছে তাঁর। এসব স্থান একটি এলাকার অনন্য বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে। এর আগে গতকাল তিনি ঠাকুরগাঁওয়ে প্রাচীন আমগাছ ও সমতল ভূমির চা-বাগান পরিদর্শন করেছেন।
ঠাকুরগাঁওয়ে রাষ্ট্রদূতের পরিদর্শনের সময় জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, ইএসডিওর নির্বাহী পরিচালক মুহম্মদ শহীদ উজ জামানসহ জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ঠাকুরগাঁওয়ে সমতলের চা–বাগান দেখে মুগ্ধ হয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। সোমবার দুপুরে স্ত্রী ডিয়ান ডাওকে সঙ্গে নিয়ে নিটোলডোবা এলাকার চা–বাগানসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন তিনি। এ সময় তিনি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন।
এ সময় ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘বাংলাদেশে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে এটিই আমার প্রথম আগমন। এর আগে আমি শুধু পাহাড়ের ঢালে থাকা চা–বাগান দেখেছি। তাই সমতলে এমন চা–বাগান দেখা আমার জন্য একদমই নতুন এক অভিজ্ঞতা। আমি দেখতে পাচ্ছি, যাঁরা প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম করে চা–পাতা তুলছেন, তাঁরা সত্যি খুব দক্ষ। কারণ, আমি খুব দ্রুত হোয়াইট টি, গ্রিন টি কিংবা ব্ল্যাক টি আলাদা করতে পারতাম না; অথচ তাঁরা সারা দিনে কেজির পর কেজি পাতা তুলে ফেলেন। তাই এটি দেখা বেশ রোমাঞ্চকর। আমি এখানকার চায়ের স্বাদ গ্রহণে অপেক্ষায় আছি। বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সফরটি খুব উপভোগ করছি এবং দেশের আরও নতুন জায়গা দেখার আশা রাখছি।’
সেখান থেকে ফেরার পথে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার হরিণমারী সীমান্তবর্তী মন্ডুমালা গ্রামে সূর্যপুরী জাতের প্রাচীন আমগাছটি পরিদর্শন করেন।
পরে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা শাহবাজপুর এলাকায় গ্রিন ফিল্ড টি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চা কারখানায় যান। সেখানে সবুজ পাতা থেকে চায়ের উৎপাদনপ্রক্রিয়া দেখেন। পরে কারখানায় উৎপাদিত গ্রিন টির স্বাদ গ্রহণ করেন।
পরিদর্শনের সময় ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী ডিয়ান ডাও, মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তা মিস নিকোল ক্লারিসা বেসনার্ড, ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, গ্রিন ফিল্ড টি ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়জুল ইসলাম, ঠাকুরগাঁও চেম্বার অ্যান্ড কমার্স ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি শরিফুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বেলা দুইটার দিকে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার পারিয়া ইউনিয়নের নিটোলডোবা গ্রামের গ্রিন ফিল্ড টি স্টেট পরিদর্শনে যান। এ সময় তিনি চা–বাগানের শ্রমিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলে চা–পাতা উৎপাদনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানেন। একপর্যায়ে তিনি মাথাল পরে চায়ের পাতা তুলতে শুরু করেন।
নিউজ ডেস্ক 
























