মাত্র ১৩.৫ ওভারেই দলীয় শতক পেরিয়ে শ্রীলঙ্কার দেওয়া ৩২২ রানের লক্ষ্যকে থোড়াই কেয়ার করছিল ইংল্যান্ড। এমনকি শেষ ৮০ বলে যখন তাদের আর ৭২ রান দরকার, তখনও হাতে ছিল ৬ উইকেট। কিন্তু নাটকীয়ভাবে সেই ম্যাচ ১৬ রানে হেরেছে হ্যারি ব্রুকের দল। কুশল মেন্ডিসের সেঞ্চুরি ও দুনিথ ভেল্লালাগের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে জিতে সিরিজে সমতায় ফিরল লঙ্কানরা।
লিডসে এই ম্যাচে নামার আগে ওয়ানডে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে ছিল সফরকারী কুশল মেন্ডিসের দল। হারলেই টি-টোয়েন্টির পর এই ফরম্যাটের সিরিজও হাতছাড়া হয়ে যেত। এমন সমীকরণ নিয়ে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ৩২১ রান তোলে শ্রীলঙ্কা। খুব অনায়াসী জয়ের পথে থাকা ইংলিশরা শেষ পর্যন্ত থামে ৩০৫ রানে।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে লঙ্কানরা উদ্বোধনী জুটিতে পায় ৪৫ রান। ছন্দে থাকা পাথুম নিশাঙ্কা ২৫ বলে ৩৩ রানে ফিরতেই ভাঙে সেই জুটি। ওয়ানডাউনে নেমে ওপেনার কামিন্দু মেন্ডিসের সঙ্গে ১২০ বলে ১৩৭ রানের দারুণ জুটি গড়ে দলকে বড় সংগ্রহের আশা দেখান কুশল মেন্ডিস। ১৮ রানে লঙ্কান অধিনায়কের ক্যাচ মিস না হলে হয়তো চিত্রটা ভিন্ন হতে পারত। শেষ পর্যন্ত কুশল ১০০ বলে ১৪ চার ও ৩ ছক্কায় ১২১ রান করেন।
সাড়ে তিনশ’র দিকে চোখ থাকলেও অধিনায়কের বিদায়ে লঙ্কানদের রানের গতি কমে যায়। কামিন্দু ৬৫ বলে ৪ চার ও ৩ ছক্কায় ৫৪ রান করেছেন। এ ছাড়া পভন রত্ননায়েকের ৩৯ বলে ৪৮ ও জানিথ লিয়ানাগের ২৬ বলে ৩২ রানের সুবাদে চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ পায় সফরকারীরা। ইংলিশদের পক্ষে ২টি করে উইকেট নিয়েছেন গাস অ্যাটকিনসন ও রেহান আহমেদ।
লক্ষ্য তাড়ায় জবাবটা ভালোভাবেই দিচ্ছিল ইংল্যান্ড। ১৪৩ রানের উদ্বোধনী জুটি ও চারটি পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংসে তারা শেষ ওভার পর্যন্ত আশা জিইয়ে রাখে। কিন্তু শেষটা মনমতো হয়নি।৬২ বলে ৭ চার ও ৩ ছক্কায় ক্যারিয়ারসেরা ৭৩ রানের ইনিংস খেলেন ওপেনার টম ব্যান্টন। ওপেনে তার সঙ্গী বেন ডাকেট ৬৩ বলে ৯ চারের সাহায্যে ৬৭ রান করেন। মাঝে হ্যারি ব্রুক ও জো রুট আউট হয়েছেন দ্রুততম সময়ে।
চাপে পড়া ইংল্যান্ডকে আবার চালকের আসনে বসান জস বাটলার। জ্যাকসের সঙ্গে পঞ্চাশ ছোঁয়া জুটি গড়ার পর ৩৮তম ওভারে তার হ্যামস্ট্রিংয়ে টান লাগে। ফিজিওর চিকিৎসা নিয়ে খেলা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও, আর দুটি বল খেলার পর খুঁড়িয়ে মাঠ ছাড়েন সাবেক এই অধিনায়ক। তখনও জয়ের জন্য ৭৫ বলে ৬৮ রান লাগলেও, ইনিংসের বাকি সময়ে ইংল্যান্ড ৫ উইকেট হারিয়ে কেবল ৫২ রান তুলতে পারে। বাটলার শেষদিকে আবার নামলেও যা হওয়ার হয়ে গেছে। তিনিও দুর্ভাগ্যজনকভাবে বাউন্ডারিতে তালুবন্দি হন।
৪৯ বলে ৫টি করে চার-ছক্কায় ৬৯ রান করেছেন বাটলার। উইল জ্যাকস ৬১ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায় করেন ৫২ রান। তবে জয় নিশ্চিত করে যেতে পারেননি আগের ম্যাচের এই ম্যাচসেরা অলরাউন্ডার। লঙ্কানদের পক্ষে দুনিথ ভেল্লালাগে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নিয়েছেন। দিলশান মাদুশঙ্কা ও এহসান মালিঙ্গা নেন ২টি করে উইকেট।
স্পোর্টস ডেস্ক 
























