ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দেশে সপ্তাহব্যাপী নানা আয়োজনে উদযাপিত হবে বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬।
আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত র্যালি, সাইকেল র্যালি, সিটি ট্যুর, মতবিনিময় সভা, প্রদর্শনী, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
এবারের আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ প্রথমবারের মতো দেওয়া ‘বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার ২০২৬’। পর্যটন খাতে টেকসই উন্নয়ন, সেবার মানোন্নয়ন, উদ্ভাবন, ডিজিটাল রূপান্তর, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ এবং নারী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করাসহ পরিবেশ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৩টি ক্যাটাগরিতে এ পুরস্কার দেওয়া হবে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থা এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে-‘Digital Agenda and Artificial Intelligence to Redesign Tourism’। এ ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশের পর্যটন খাতে ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনা এবারের আয়োজনে তুলে ধরা হবে।
২৭ সেপ্টেম্বর র্যালি ও সিটি ট্যুর২৭ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টায় পশ্চিম আগারগাঁওয়ের পর্যটন ভবন প্রাঙ্গণ থেকে বিশ্ব পর্যটন দিবসের র্যালি শুরু হবে। এতে পর্যটন সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন অংশীজন অংশ নেবেন।
র্যালিতে আবহমান বাংলার জীবনধারা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্য এবং ঢাকার ঐতিহ্য তুলে ধরা হবে।
সকাল সাড়ে ৯টায় সাইকেল র্যালি এবং ৯টা ৪০ মিনিটে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের উদ্যোগে সিটি ট্যুরের উদ্বোধন হবে। সিটি ট্যুরে সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা গাইডেড ট্যুরের মাধ্যমে ঢাকার বিভিন্ন পর্যটন আকর্ষণ ঘুরে দেখার সুযোগ পাবে।
র্যালির উদ্বোধন করবেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, এমপি।
পর্যটন অংশীজন ও কূটনীতিকদের সঙ্গে মতবিনিময়
২৮ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টায় পর্যটন ভবনের লেভেল-১০-এর সম্মেলন কক্ষে পর্যটন অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে দেশের পর্যটন খাতের সামগ্রিক উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হবে।
৩০ সেপ্টেম্বর একই সময়ে একই স্থানে উৎস দেশগুলোর কূটনীতিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে ইনবাউন্ড ট্যুরিজমের প্রসার এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে পর্যটন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হবে।
৩ অক্টোবর মূল আয়োজন
৩ অক্টোবর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্ব পর্যটন দিবসের মূল আয়োজন।
বিকেল সাড়ে ২টায় ১২টি থিমেটিক প্রদর্শনী স্টল উদ্বোধন ও পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হবে। এসব স্টলে দেশের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি, খাবার, জিআই পণ্য, ক্রাফট ও স্যুভেনির, ঐতিহ্যবাহী তাঁত ও বস্ত্র, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্য, পর্যটন গন্তব্য এবং আবহমান বাংলার জীবনধারা তুলে ধরা হবে।
পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে পর্যটন গন্তব্যের অভিজ্ঞতা, ‘টাইম ট্রাভেল’ এবং পর্যটন স্থানের ছবি তোলার বিষয়ও প্রদর্শন করা হবে।
বিকেল ৩টায় শুরু হবে ‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’ শীর্ষক আলোচনা সভা। এতে স্বাগত বক্তব্য দেবেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী।
আলোচনা সভায় ইউএস ট্যুরিজমের মহাসচিবের ভিডিও শুভেচ্ছা বার্তা প্রচার করা হবে। দিবসের প্রতিপাদ্যের ওপর থিমেটিক উপস্থাপনা করবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রুহুল আমীন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি জি এম আজিজুর রহমান, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুর রউফ, এনডিসি এবং সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, এমপি।
১৩ ক্যাটাগরিতে ‘বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার’
এবারের আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ‘বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার ২০২৬’। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড প্রথমবারের মতো এ পুরস্কার দিচ্ছে।
পর্যটন শিল্পে উৎকর্ষ, দায়িত্বশীলতা ও উদ্ভাবনের দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, উদ্যোক্তা ও উদ্যোগকে জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি দেওয়াই এ পুরস্কারের লক্ষ্য। একই সঙ্গে টেকসই পর্যটন শিল্প গড়ে তোলা এবং পর্যটন খাতের উদ্যোক্তা ও অংশীজনদের উৎসাহিত করাও এর উদ্দেশ্য।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এবং সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার, এনডিসি।
আলোচনা সভা শেষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সহযোগিতায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।
সপ্তাহব্যাপী এ আয়োজনে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন, ট্যুরিস্ট পুলিশ, মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন সংস্থা, হোটেল-রিসোর্ট, ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল এজেন্ট, বিনোদন পার্ক, বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা প্রশাসন এবং পর্যটন গন্তব্যভিত্তিক অংশীজনরা অংশ নেবেন।
নিজস্ব সংবাদ : 























