ঢাকা ১০:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
বর্ণাঢ্য আয়োজনে আগামীকাল বিশ্ব পর্যটন দিবস উদযাপন করবে বাংলাদেশ ঘরজামাই দত্তক নিচ্ছে জাপানের ধনী পরিবারগুলো, আবেদন করতে পারবে বাংলাদেশিরাও এক বছর পার হলেও বাকৃবির ১০ তলা হলে চালু হয়নি লিফট, ছাত্রীদের ভোগান্তি খেলার মাঠে অসুস্থ হয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিবের মৃত্যু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে টানা ৭ দিন দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের নির্দেশ:শিক্ষা মন্ত্রণালয় মধ্যরাতে মিরপুর-১ নম্বরে বেসরকারী স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান রাড্ডা গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় চারজন গ্রেপ্তার আর্থিক সংকটে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ক্রিকেটারদের বেতন কমানোর সিদ্ধান্ত রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ইংলিশদের হারিয়ে সমতায় ফিরল শ্রীলঙ্কা মুন্সীগঞ্জে গ্রাহকের কোটি কোটি টাকা নিয়ে উধাও অগ্রণী ব্যাংকের কর্মকর্তা

এক বছর পার হলেও বাকৃবির ১০ তলা হলে চালু হয়নি লিফট, ছাত্রীদের ভোগান্তি

  • নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:২৫:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ০ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ছাত্রীদের আবাসন সংকট দূর করতে গত বছরের সেপ্টেম্বরে ১০ তলাবিশিষ্ট বেগম খালেদা জিয়া হল উদ্বোধন করা হয়। তবে চালুর এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো চালু হয়নি হলের লিফট সুবিধা। ৩৫০ জন ছাত্রী নিয়ে চালু হওয়া এ হলে বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় হাজারে। ফলে প্রতিদিন সিঁড়ি ভেঙে ওঠানামা করতে গিয়ে দৈনন্দিন যাতায়াতসহ জরুরি চিকিৎসাসেবায় চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন ছাত্রীরা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দেশে কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ তলা আবাসিক হল লিফট ছাড়া পরিচালিত হওয়ার নজির বিরল। দিনে অন্তত তিনবার খাবারের জন্য এবং সকাল-বিকেলের ক্লাসে যাতায়াতের জন্য এত উঁচু ভবনে সিঁড়ি ভাঙা শারীরিক ও মানসিকভাবে অত্যন্ত ক্লান্তিকর। বিশেষ করে ১০ তলার কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামিয়ে হেলথ কেয়ারে নেওয়া এবং চিকিৎসা শেষে আবার উপরে তোলা অমানুষিক কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনতে দ্রুততম সময়ে ভবনটিতে লিফট চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা।

‎পশুপালন অনুষদের দ্বিতীয় বর্ষের এবং হলের ৮ম তলায় অবস্থানরত এক শিক্ষার্থী বলেন, ক্লাস শেষে অনেক ক্লান্ত থাকি। এরপর এত ওপরে উঠতে গিয়ে আরও কাহিল হয়ে পড়ি। অনেক সময় ক্লাসের ফাঁকে এক থেকে দুই ঘণ্টা বিরতি থাকলেও রুমে ফিরতে পারি না। তত্ত্বীয় ও ব্যবহারিক ক্লাস দিনে দুই সময়ে হওয়ায় হলে আসা-যাওয়া করতে অনেক কষ্ট হয়। আমাদের ক্যান্টিনও নিচতলায়। খাবার নিতে নিচতলা পর্যন্ত যেতে হয়, যা আমাদের জন্য অনেক কষ্টের। আবার ক্যান্টিনের খাবারের মানও তেমন ভালো নয়।

ভবনের ‎১০ম তলায় অবস্থান করা প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থী ভোগান্তির কথা উল্লেখ করে বলেন, ১০ তলায় সিট বরাদ্দ পাওয়ায় অনেক ভোগান্তির শিকার হচ্ছি। একবার ওপরে উঠলে আবার নিচে নামতে ইচ্ছা করে না। এ কারণে অনেক সময় দিনে একবেলা খাবার খাই। একবার নিচে নেমে খাবার নিয়ে আসি। সকালের খাবার তো খাওয়াই হয় না। বিশেষ করে শুক্রবার ও শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস বন্ধ থাকায় খাবারের কষ্ট আরও বেশি হয়। এ ছাড়া আমাদের রান্না করার কোনো সুযোগ নেই। জরুরি পরিস্থিতিতে কোনো কিছু রান্না করে খাওয়ারও উপায় থাকে না। তাই অনেক সময় না খেয়েই থাকতে হয়।‎

‎শিক্ষার্থীদের এই উদ্বেগের বিষয়ে জানতে চাইলে হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের মাঝে এ বিষয়ে উদ্বেগ থাকাটা স্বাভাবিক। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এটি সমাধানের জন্য অত্যন্ত দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।

‎​নতুন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আমরা শিক্ষক ও হাউজ টিউটররা দফায় দফায় মিটিং করেছি। লিফট স্থাপনের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। আমি আশা করছি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে অন্তত একটি লিফট চালু হয়ে যাবে। লিফট চালু হলে ছাত্রীদের ওঠানামার কষ্ট অনেকখানি কমে যাবে।​ ১০তলা পর্যন্ত সিড়ি দিয়ে ওঠানামা করা কতটা কষ্টের এবং অমানবিক তা আমরা অভিভাবক ও শিক্ষক হিসেবে গভীরভাবে অনুভব করি।‎

খালেদা জিয়া হলের লিফট চালুর অগ্রগতি সম্পর্কে প্রধান প্রকৌশলী মুহ. এনামুল হক জানান, জাপানি প্রযুক্তির নতুন লিফটটির মেশিনসহ আনুষঙ্গিক সব কাজ শেষ হয়েছে।বর্তমানে তিনতলা পর্যন্ত পরীক্ষামূলকভাবে চালানো হচ্ছে। এটি পুরোপুরি কার্যকর হতে আরও প্রায় এক সপ্তাহ সময় লাগবে। শিক্ষার্থীরা পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহারের পর লিফটটি স্থায়ীভাবে চালু করা হবে। আপাতত একটি লিফট চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্য লিফটগুলোর যন্ত্রাংশ পৌঁছালেও সেগুলোর কাজ এখনো শুরু হয়নি। তবে নিয়মিত সার্ভিসিং বজায় রেখে বর্তমান লিফটটি সচল রাখাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

বর্ণাঢ্য আয়োজনে আগামীকাল বিশ্ব পর্যটন দিবস উদযাপন করবে বাংলাদেশ

এক বছর পার হলেও বাকৃবির ১০ তলা হলে চালু হয়নি লিফট, ছাত্রীদের ভোগান্তি

আপডেট সময় ০৯:২৫:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ছাত্রীদের আবাসন সংকট দূর করতে গত বছরের সেপ্টেম্বরে ১০ তলাবিশিষ্ট বেগম খালেদা জিয়া হল উদ্বোধন করা হয়। তবে চালুর এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো চালু হয়নি হলের লিফট সুবিধা। ৩৫০ জন ছাত্রী নিয়ে চালু হওয়া এ হলে বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় হাজারে। ফলে প্রতিদিন সিঁড়ি ভেঙে ওঠানামা করতে গিয়ে দৈনন্দিন যাতায়াতসহ জরুরি চিকিৎসাসেবায় চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন ছাত্রীরা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দেশে কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ তলা আবাসিক হল লিফট ছাড়া পরিচালিত হওয়ার নজির বিরল। দিনে অন্তত তিনবার খাবারের জন্য এবং সকাল-বিকেলের ক্লাসে যাতায়াতের জন্য এত উঁচু ভবনে সিঁড়ি ভাঙা শারীরিক ও মানসিকভাবে অত্যন্ত ক্লান্তিকর। বিশেষ করে ১০ তলার কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামিয়ে হেলথ কেয়ারে নেওয়া এবং চিকিৎসা শেষে আবার উপরে তোলা অমানুষিক কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনতে দ্রুততম সময়ে ভবনটিতে লিফট চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা।

‎পশুপালন অনুষদের দ্বিতীয় বর্ষের এবং হলের ৮ম তলায় অবস্থানরত এক শিক্ষার্থী বলেন, ক্লাস শেষে অনেক ক্লান্ত থাকি। এরপর এত ওপরে উঠতে গিয়ে আরও কাহিল হয়ে পড়ি। অনেক সময় ক্লাসের ফাঁকে এক থেকে দুই ঘণ্টা বিরতি থাকলেও রুমে ফিরতে পারি না। তত্ত্বীয় ও ব্যবহারিক ক্লাস দিনে দুই সময়ে হওয়ায় হলে আসা-যাওয়া করতে অনেক কষ্ট হয়। আমাদের ক্যান্টিনও নিচতলায়। খাবার নিতে নিচতলা পর্যন্ত যেতে হয়, যা আমাদের জন্য অনেক কষ্টের। আবার ক্যান্টিনের খাবারের মানও তেমন ভালো নয়।

ভবনের ‎১০ম তলায় অবস্থান করা প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থী ভোগান্তির কথা উল্লেখ করে বলেন, ১০ তলায় সিট বরাদ্দ পাওয়ায় অনেক ভোগান্তির শিকার হচ্ছি। একবার ওপরে উঠলে আবার নিচে নামতে ইচ্ছা করে না। এ কারণে অনেক সময় দিনে একবেলা খাবার খাই। একবার নিচে নেমে খাবার নিয়ে আসি। সকালের খাবার তো খাওয়াই হয় না। বিশেষ করে শুক্রবার ও শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস বন্ধ থাকায় খাবারের কষ্ট আরও বেশি হয়। এ ছাড়া আমাদের রান্না করার কোনো সুযোগ নেই। জরুরি পরিস্থিতিতে কোনো কিছু রান্না করে খাওয়ারও উপায় থাকে না। তাই অনেক সময় না খেয়েই থাকতে হয়।‎

‎শিক্ষার্থীদের এই উদ্বেগের বিষয়ে জানতে চাইলে হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের মাঝে এ বিষয়ে উদ্বেগ থাকাটা স্বাভাবিক। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এটি সমাধানের জন্য অত্যন্ত দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।

‎​নতুন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আমরা শিক্ষক ও হাউজ টিউটররা দফায় দফায় মিটিং করেছি। লিফট স্থাপনের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। আমি আশা করছি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে অন্তত একটি লিফট চালু হয়ে যাবে। লিফট চালু হলে ছাত্রীদের ওঠানামার কষ্ট অনেকখানি কমে যাবে।​ ১০তলা পর্যন্ত সিড়ি দিয়ে ওঠানামা করা কতটা কষ্টের এবং অমানবিক তা আমরা অভিভাবক ও শিক্ষক হিসেবে গভীরভাবে অনুভব করি।‎

খালেদা জিয়া হলের লিফট চালুর অগ্রগতি সম্পর্কে প্রধান প্রকৌশলী মুহ. এনামুল হক জানান, জাপানি প্রযুক্তির নতুন লিফটটির মেশিনসহ আনুষঙ্গিক সব কাজ শেষ হয়েছে।বর্তমানে তিনতলা পর্যন্ত পরীক্ষামূলকভাবে চালানো হচ্ছে। এটি পুরোপুরি কার্যকর হতে আরও প্রায় এক সপ্তাহ সময় লাগবে। শিক্ষার্থীরা পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহারের পর লিফটটি স্থায়ীভাবে চালু করা হবে। আপাতত একটি লিফট চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্য লিফটগুলোর যন্ত্রাংশ পৌঁছালেও সেগুলোর কাজ এখনো শুরু হয়নি। তবে নিয়মিত সার্ভিসিং বজায় রেখে বর্তমান লিফটটি সচল রাখাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।