ঢাকা ১২:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
আ’লীগের ডোনারের কাছ থেকে জায়গা ভাড়া নেওয়া সালমান মুক্তাদিরের উচিত হয়নি ভুয়া ও জাল সনদে মতিঝিল আইডিয়ালে চাকরি, ২৩ শিক্ষককে দুদকে তলব ‘নীরব ঘাতক’ সিসার মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শিশুরা বিশ্বের ৫৪ দেশের প্রতিনিধিদের অ্যাম্বাসেডর নির্বাচনে বিজয়ী ছাত্রদল সহ-সভাপতি ডা. আউয়াল সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরসহ রাতের হামলার মূল পরিকল্পনাকারী গ্রেপ্তার: পুলিশ ঠাকুরগাঁও–১ আসনের উপনির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন নারী উন্নয়নে গণমাধ্যমকর্মীদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের সফর শেষে নিউইয়র্ক ছেড়ে দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী বর্ণাঢ্য আয়োজনে আগামীকাল বিশ্ব পর্যটন দিবস উদযাপন করবে বাংলাদেশ ঘরজামাই দত্তক নিচ্ছে জাপানের ধনী পরিবারগুলো, আবেদন করতে পারবে বাংলাদেশিরাও

‘নীরব ঘাতক’ সিসার মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শিশুরা

  • নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:২৪:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

সিসার সবচেয়ে মারাত্মক প্রভাব দেখা যায় তখনই, যখন মানুষের মস্তিষ্ক সক্রিয়ভাবে বিকাশের পর্যায়ে থাকে। গর্ভাবস্থা, নবজাতক সময় ও শৈশবে অতিরিক্ত সিসার সংস্পর্শে এলে শিশুর স্নায়ুতন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর ফলে শেখার ক্ষমতা কমে যায়, সেই সঙ্গে আচরণগত সমস্যা দেখা দেয়। এমনকি বুদ্ধিমত্তার মান (আইকিউ) কমে যাওয়ার মতো জটিলতা তৈরি হতে পারে বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

খুব ছোট শিশুরা সিসার ক্ষতিকর প্রভাবের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। কারণ তাদের শরীরের আকার ছোট, বিপাকক্রিয়া দ্রুত এবং শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি খুব দ্রুতগতিতে ঘটে। এ সময় সামান্য পরিমাণ সিসাও তাদের স্বাস্থ্যে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

শিশুদের কোমল দেহে ক্ষতিকারক সিসার উপস্থিতি দিন দিন বেড়েই চলছে। স্নায়বিক বিষাক্ততা শিশুদের বাড়ন্ত দেহ ও মস্তিষ্কের জন্য মারাত্মক হুমকি স্বরূপ। সিসার বিষক্রিয়ায় শিশুরা প্রতিবন্ধীতার মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছে।
ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন (who) তথা বিশ্ব স্বাস্থ্য  সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মানবদেহে সিসার বিষক্রিয়ার দিক থেকে বিশ্বে চতুর্থ স্থানে অবস্থান করছে বাংলাদেশের নাম।
‘লেড পয়জনিং ইন বাংলাদেশ রিসার্চ এভিডেন্স ফর আর্জেন্ট একশন’ এর গবেষণায় দেখা গিয়েছে, সম্প্রতি দেশের সাড়ে তিন কোটি শিশু তাদের দেহে ক্ষতিকর সিসা বয়ে বেড়াচ্ছে। যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ বিষয়ক কেন্দ্রীয় সংস্থা ‘সেন্টার ফর ডিসিস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন’ (সিডিসি) নির্ধারিত ৩.৫ মাইক্রোগ্রামের বেশি কারও শরীরে সিসার উপস্থিতি দেখা গেলে তাকে ক্ষতিকর বলা হয়েছে, সেখানে দেশের প্রায় এক কোটি শিশুর রক্তে রয়েছে ১০ মাইক্রোগ্রাম পার ডেসিলিটারের বেশি সিসা।

সিসা দূষণ বর্তমান সময়ে মারাত্মক রূপ ধারণ করছে। প্রতিবছর সিসা দূষণের ফলে দেশে ৩১ হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটে যা দেশের মোট মৃত্যুর ৩.৬ শতাংশ।

জাতীয় শিশুবিষয়ক সংস্থা ‘ইউনিসেফের’ উদ্যোগে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) ও আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র (আইসিডিডিআরবি)-এর গবেষণা অনুযায়ী, সম্প্রতি রাজধানীতে ৫০০ শিশুর রক্ত পরীক্ষায় সকলের শরীরে সিসার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এতে ছেলে শিশুর তুলনায় মেয়ে শিশুর শরীরে সিসার উপস্থিতি বেশি দেখা গিয়েছে।

সিসা একটি শক্তিশালী ‘নিউরোটক্সিন’, যা শিশুদের শারীরিক, মানসিক ও মস্তিষ্কে অপূরণীয় ক্ষতি সাধন করে থাকে।

খাবারে সিসা:
কিছু খাবার ও মসলায় সিসা থাকার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রির জন্য কোনও খাবারে ইচ্ছাকৃতভাবে সিসা যোগ করা আইনত নিষিদ্ধ। তবুও পরীক্ষা করে দেখা গেছে, কিছু খাবার ও মসলায় সিসার উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

মসলা কেনার সময় খোলা বা বাল্ক বিনের মসলা না কিনে আলাদা প্যাকেটে বিক্রি হওয়া মসলা কেনা ভালো। এছাড়া অন্য দেশ থেকে আনা মসলার পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রে কেনা মসলা ব্যবহার করাই নিরাপদ। যেসব খাবার ও মসলায় তুলনামূলকভাবে বেশি সিসা পাওয়া গেছে, সেগুলো হলো—
• আমদানি করা ক্যান্ডি
• ধনিয়া
• হলুদ
• মরিচ গুঁড়া
• কারি পাউডার
• লবঙ্গ
• গোটা শুকনো মরিচ

আইসিডিডিআরবি এর তথ্য অনুযায়ী শিশুদের জন্য উৎপাদিত খেলনা,সব ধরনের রং, অ্যালুমিনিয়াম, সিলভারের হাঁড়িপাতিল, সবজি, চাল এবং বাজারের মসলা সামগ্রীতে সিসার উপস্থিতি অকল্পনীয়ভাবে দেখা গেছে, যা সত্যিই দুঃখজনক ও আগামী প্রজন্মের জন্য ভয়াবহ।

গবেষকদের মতে, সিসা একটি ধীরগতির বিষক্রিয়া, যা শরীরে অবস্থানের ফলে শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধীরে ধীরে অকেজো হয়ে যায়। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে খাবার, শ্বাস-প্রশ্বাস ও গর্ভবতী মায়েদের মাধ্যমে শিশুদের শরীরে এ ক্ষতিকর সিসা প্রবেশ করে। মানবদেহে এ সিসার উপস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে যকৃত, হৃদপি-, পরিপাক ও প্রজনন তন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি সাধন করে। সিসা দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে ও পরবর্তী প্রজন্মকে সিসার ভয়াল থাবা থেকে সুরক্ষা দিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, প্রিন্ট মিডিয়া, ইলেকট্রিক মিডিয়াসহ সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।সেই সঙ্গে সিসাদূষণ থেকে মানুষকে বিশেষ করে শিশুদের সুরক্ষা দিতে সরকারকে আইন প্রণয়নের পাশাপাশি আইনের বাস্তবায়নে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তবেই সিসার বিষক্রিয়া থেকে আমাদের কোমলমতি শিশুরা রক্ষা পেতে পারে।

সূত্র: ইউএস ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ও মিনিসোডা ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ

জনপ্রিয় সংবাদ

আ’লীগের ডোনারের কাছ থেকে জায়গা ভাড়া নেওয়া সালমান মুক্তাদিরের উচিত হয়নি

‘নীরব ঘাতক’ সিসার মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শিশুরা

আপডেট সময় ০৯:২৪:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিসার সবচেয়ে মারাত্মক প্রভাব দেখা যায় তখনই, যখন মানুষের মস্তিষ্ক সক্রিয়ভাবে বিকাশের পর্যায়ে থাকে। গর্ভাবস্থা, নবজাতক সময় ও শৈশবে অতিরিক্ত সিসার সংস্পর্শে এলে শিশুর স্নায়ুতন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর ফলে শেখার ক্ষমতা কমে যায়, সেই সঙ্গে আচরণগত সমস্যা দেখা দেয়। এমনকি বুদ্ধিমত্তার মান (আইকিউ) কমে যাওয়ার মতো জটিলতা তৈরি হতে পারে বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

খুব ছোট শিশুরা সিসার ক্ষতিকর প্রভাবের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। কারণ তাদের শরীরের আকার ছোট, বিপাকক্রিয়া দ্রুত এবং শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি খুব দ্রুতগতিতে ঘটে। এ সময় সামান্য পরিমাণ সিসাও তাদের স্বাস্থ্যে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

শিশুদের কোমল দেহে ক্ষতিকারক সিসার উপস্থিতি দিন দিন বেড়েই চলছে। স্নায়বিক বিষাক্ততা শিশুদের বাড়ন্ত দেহ ও মস্তিষ্কের জন্য মারাত্মক হুমকি স্বরূপ। সিসার বিষক্রিয়ায় শিশুরা প্রতিবন্ধীতার মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছে।
ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন (who) তথা বিশ্ব স্বাস্থ্য  সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মানবদেহে সিসার বিষক্রিয়ার দিক থেকে বিশ্বে চতুর্থ স্থানে অবস্থান করছে বাংলাদেশের নাম।
‘লেড পয়জনিং ইন বাংলাদেশ রিসার্চ এভিডেন্স ফর আর্জেন্ট একশন’ এর গবেষণায় দেখা গিয়েছে, সম্প্রতি দেশের সাড়ে তিন কোটি শিশু তাদের দেহে ক্ষতিকর সিসা বয়ে বেড়াচ্ছে। যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ বিষয়ক কেন্দ্রীয় সংস্থা ‘সেন্টার ফর ডিসিস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন’ (সিডিসি) নির্ধারিত ৩.৫ মাইক্রোগ্রামের বেশি কারও শরীরে সিসার উপস্থিতি দেখা গেলে তাকে ক্ষতিকর বলা হয়েছে, সেখানে দেশের প্রায় এক কোটি শিশুর রক্তে রয়েছে ১০ মাইক্রোগ্রাম পার ডেসিলিটারের বেশি সিসা।

সিসা দূষণ বর্তমান সময়ে মারাত্মক রূপ ধারণ করছে। প্রতিবছর সিসা দূষণের ফলে দেশে ৩১ হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটে যা দেশের মোট মৃত্যুর ৩.৬ শতাংশ।

জাতীয় শিশুবিষয়ক সংস্থা ‘ইউনিসেফের’ উদ্যোগে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) ও আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র (আইসিডিডিআরবি)-এর গবেষণা অনুযায়ী, সম্প্রতি রাজধানীতে ৫০০ শিশুর রক্ত পরীক্ষায় সকলের শরীরে সিসার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এতে ছেলে শিশুর তুলনায় মেয়ে শিশুর শরীরে সিসার উপস্থিতি বেশি দেখা গিয়েছে।

সিসা একটি শক্তিশালী ‘নিউরোটক্সিন’, যা শিশুদের শারীরিক, মানসিক ও মস্তিষ্কে অপূরণীয় ক্ষতি সাধন করে থাকে।

খাবারে সিসা:
কিছু খাবার ও মসলায় সিসা থাকার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রির জন্য কোনও খাবারে ইচ্ছাকৃতভাবে সিসা যোগ করা আইনত নিষিদ্ধ। তবুও পরীক্ষা করে দেখা গেছে, কিছু খাবার ও মসলায় সিসার উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

মসলা কেনার সময় খোলা বা বাল্ক বিনের মসলা না কিনে আলাদা প্যাকেটে বিক্রি হওয়া মসলা কেনা ভালো। এছাড়া অন্য দেশ থেকে আনা মসলার পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রে কেনা মসলা ব্যবহার করাই নিরাপদ। যেসব খাবার ও মসলায় তুলনামূলকভাবে বেশি সিসা পাওয়া গেছে, সেগুলো হলো—
• আমদানি করা ক্যান্ডি
• ধনিয়া
• হলুদ
• মরিচ গুঁড়া
• কারি পাউডার
• লবঙ্গ
• গোটা শুকনো মরিচ

আইসিডিডিআরবি এর তথ্য অনুযায়ী শিশুদের জন্য উৎপাদিত খেলনা,সব ধরনের রং, অ্যালুমিনিয়াম, সিলভারের হাঁড়িপাতিল, সবজি, চাল এবং বাজারের মসলা সামগ্রীতে সিসার উপস্থিতি অকল্পনীয়ভাবে দেখা গেছে, যা সত্যিই দুঃখজনক ও আগামী প্রজন্মের জন্য ভয়াবহ।

গবেষকদের মতে, সিসা একটি ধীরগতির বিষক্রিয়া, যা শরীরে অবস্থানের ফলে শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধীরে ধীরে অকেজো হয়ে যায়। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে খাবার, শ্বাস-প্রশ্বাস ও গর্ভবতী মায়েদের মাধ্যমে শিশুদের শরীরে এ ক্ষতিকর সিসা প্রবেশ করে। মানবদেহে এ সিসার উপস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে যকৃত, হৃদপি-, পরিপাক ও প্রজনন তন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি সাধন করে। সিসা দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে ও পরবর্তী প্রজন্মকে সিসার ভয়াল থাবা থেকে সুরক্ষা দিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, প্রিন্ট মিডিয়া, ইলেকট্রিক মিডিয়াসহ সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।সেই সঙ্গে সিসাদূষণ থেকে মানুষকে বিশেষ করে শিশুদের সুরক্ষা দিতে সরকারকে আইন প্রণয়নের পাশাপাশি আইনের বাস্তবায়নে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তবেই সিসার বিষক্রিয়া থেকে আমাদের কোমলমতি শিশুরা রক্ষা পেতে পারে।

সূত্র: ইউএস ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ও মিনিসোডা ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ